দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ই-টিন (e-TIN) সনদ থাকলেও আয় নেই কিংবা আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে—এমন করদাতাদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিল করা মানেই কর পরিশোধ করা নয়। প্রকৃত আয় ও প্রযোজ্য হিসাব অনুযায়ী প্রদেয় কর শূন্য হলে তাকে সাধারণভাবে ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ বলা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। এ জন্য নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টালে নিবন্ধন করে বা আগে নিবন্ধন করা থাকলে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।
প্রথমে এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। প্রথমবার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২ সংখ্যার করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং এনআইডির বিপরীতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। নিবন্ধন শেষে টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে পোর্টালে প্রবেশ করা যাবে।
লগইন করার পর ‘রিটার্ন সাবমিশন’ অপশন নির্বাচন করে করবর্ষ ও প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। এরপর আয়ের বিভিন্ন খাত, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য পূরণ করতে হবে। সব তথ্য একবারে দেওয়া সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে পূরণ করে সংরক্ষণ করা যায়। পরে আবার লগইন করে বাকি তথ্য দেওয়া যাবে।
আয় না থাকলেও রিটার্নের সব ঘরে শূন্য বসানো কিংবা সব তথ্য ফাঁকা রাখা ঠিক নয়। ব্যাংক হিসাবে টাকা, জমি বা ফ্ল্যাটের মতো সম্পদ কিংবা বাস্তবে কোনো ব্যয় থাকলে প্রযোজ্য অংশে তার সঠিক তথ্য দিতে হবে। আয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে ভবিষ্যতে করসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
রিটার্ন দেওয়ার আগে নিজের আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। করমুক্ত আয়ের সীমা করবর্ষ ও করদাতার শ্রেণি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। আবার আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে। তাই শুধু আয় কম বা নেই—এমন ধারণার ভিত্তিতে রিটার্নের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
আয় ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পূরণের পর ‘ট্যাক্স অ্যান্ড পেমেন্ট’ অংশে প্রদেয় করের হিসাব যাচাই করতে হবে। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে করের পরিমাণ শূন্য হলে সেটি জিরো ট্যাক্স রিটার্নের পরিস্থিতি। অন্যদিকে, উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে বা অগ্রিম কর দেওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্যও ওই অংশে উল্লেখ করতে হবে।
সব তথ্য পূরণের পর ‘রিটার্ন ভিউ’ অপশন থেকে পুরো রিটার্ন যাচাই করে নিতে হবে। নিজের নাম, টিআইএন, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় ও করের হিসাব মিলিয়ে কোনো ভুল থাকলে সাবমিটের আগেই সংশোধন করতে হবে।
সব তথ্য সঠিক থাকলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। দাখিলের পর পাওয়া প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রযোজ্য করসংক্রান্ত সনদ সংরক্ষণ করা উচিত। প্রয়োজনে এসব নথি ডাউনলোড বা মুদ্রণ করে ব্যবহার করা যাবে।
জিরো ট্যাক্স রিটার্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, করের পরিমাণ শূন্য হলেও আর্থিক তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ, দায় এবং জীবনযাপন-সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্যও দিতে হতে পারে। তাই কর দিতে হবে না—এমন ধারণা থেকে রিটার্নের অন্যান্য অংশ বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
অর্থাৎ, আয় না থাকলেও নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করে প্রকৃত আর্থিক তথ্য দিতে হবে। এরপর হিসাব অনুযায়ী করের পরিমাণ নিশ্চিত করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
এমএম/